সাতপাকে বাঁধা – সপ্তম ভাগ

by Tamali


একাদশ পর্ব:-
উফফ কে কলিং বেলটা বাজিয়েই যাচ্ছে এত সকালে!পর্ণার ব্যাপারটা অন্য ফ্ল্যাটের কেউ এখনো সেভাবে জানেনা।কিন্তু লোকজন এলেই প্রশ্ন উঠবে,এ কথা সে কথা করে আসলটা বেরিয়ে আসবে।কিন্তু বেলটা বেজেই যাচ্ছে মা দরজাটা খুলছেনা কেন?ভগবান….কি অসহ্য আওয়াজ।আ আ আ….নিজেকে বিছানা থেকে জোর করে টেনে তুলে ঘরের বাইরে আনে শুভ,কিন্তু মা কই!?কোথায় গেল মা,কোথাও মায়ের চিহ্ন নেই।এদিকে বেলের একটানা আওয়াজে মাথার শিরা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে।দুহাতে কান চেপে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে শুভর মুখে কথা সরেনা।”পর্ণা!!!! প…অ… অ… র…র…ন..ন…আ… আ।আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা।কোথায় ছিল তুমি দুদিন??কথা বলছোনা কেন তুমি?একি কোথায় যাচ্ছ?পর্ণা দাঁড়াও।ফিরে এসো।প….র…র…ন….ন…আ।”হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে যায় এস.এস এর।কিন্তু ঘোর কাটেনা,অনেক্ষন বুঝতে পারেনা স্বপ্ন দেখছিল না সত্যি পর্ণা এসেছিল?যখন বুঝতে পারে বিকেলের শেষে চোখটা সামান্য লেগে এসেছিল,আর ঘুমের মধ্যেই শুধুমাত্র স্বপ্নে পর্ণা এসেছিল মনটা হতাশায় ভরে যায়।বাইরেটা অন্ধকার হয়ে আসছে,মানে প্রায় ২৪ঘন্টা কাটতে চললো পর্ণা হারিয়ে যাওয়ার।কেমন আছে তার পর্ণা?একদিন,মাত্র একদিন ওকে একা ছেড়ে দিতেই হারিয়ে গেল?!এতদিন আগলে আগলে রেখে একদিনের ভুল পুরো জীবনটা ওলটপালট করে দিলো।পর্ণা কোথায় তুমি?কোথায় খুঁজবো তোমাকে? আমি যদিও বিশ্বাস করিনা তুমি নিজে থেকে চলে গেছো,কিন্তু আমি তো সত্যি তোমায় অনেকটা বেশি কষ্ট দিয়েছি।আজ থেকে আড়াই বছর আগে মিত্রার ঘটনা যখন অনেকেই বিশ্বাস করেছিল অপরিণত তুমি তার থেকে আমায় বের করে এনেছিল,বিশ্বাসের অঞ্জলি দিয়েছিলে।এমনকি  আজ প্রজ্ঞার ব্যবহার তোমায় কষ্ট দিলেও তুমি আমায় কোনোদিন অবিশ্বাস করোনি,আর সেই অকৃতজ্ঞ আমি তোমার সামান্য হাসি সহ্য করতে পারলাম না।এতটা অপরিনতবোধ কোথায় ছিল আমার?একদিন তুমি বাপের বাড়ি গেলে এই ঘরে একা থাকতে অসহ্য লাগতো,আর এখন নিজেও জানিনা তোমায় ফিরে পাব কিনা?বিশ্বাস করো তুমি না ফিরলে আমি মায়ের কথাও আর ভাবতে পারবোনা,জাস্ট শেষ করে দেব নিজেকে।কি করে,কিকরে তোমায় ছাড়া বাঁচবো?বেশি করে যেখানে আমি দায়ী।উফ কিকরে আমি তোমায় ছেড়ে সেদিন চলে যেতে পারলাম?কিছুক্ষন নিজের মনে এসব ভাবার পর শুভঙ্করের মনে হয় আজ একবার অকারণ হলেও উনিভার্সিটি যাওয়ার দরকার ছিল।শুভ কাল উনিভার্সিটি থেকে বের হয় ৪টে নাগাদ,কিন্তু পর্ণা তখনও ছিল।ও কখন বেরিয়েছে,কারো সাথে বেরিয়েছে কিনা এগুলো জানলে অনেকটা ধোঁয়াশা কাটবে।কাল আবার রবিবার,আজ শনিবার ডিপার্টমেন্ট ছুটি থাকলেও লাইব্রেরি,গেটম্যান এদের সাথে কথা বলা যেত।না,এতটা ভেঙে পড়লে হবেনা।শেষ চেষ্টা তো একটা করতেই হবে।বার বার যে স্বপ্ন দেখছে তা কি শুধুই অবচেতনে চিন্তার ফল,নাকি সত্যি পর্ণা হারিয়ে যাওয়ার আগে শুভকে  জাগাতে চাইছে,সাহায্য চাইছে বাঁচার।কিন্তু ওর ওপর সব সন্দেহ পড়বে জেনেও সৌরভ এই কাজটা করবে? প্রজ্ঞা সত্যি অনেক হেল্প করেছে,ওকে সন্দেহ করাটা এমনিও স্বাভাবিক নয়,একটা মেয়ের মধ্যে হিংসা থাকলেও এত বড় সাংঘাতিক কাজ করতে পারবেনা।তাছাড়া ওর বাবা কেও যথেষ্ট ভরসা করা যায়।বরং প্রজ্ঞা সাহায্যই করবে।কিন্তু সৌরভ এখন ২-৩বছর পর এসব করবে?মিত্রার কেসে ও সামনে আসেনি,এমনকি মিত্রার আর কোনো ক্ষতির চেষ্টাও করেনি।মিত্রা আজ নামি প্লেব্যাক সিঙ্গার হয়তো হতে পারেনি,কিন্তু গানের স্কুল করে আর গানের অনুষ্ঠান করে খারাপ আয় করেনা।ক্লান্ত শরীর মন আর ধকল নিতে পারছেনা বলে শুভ দুপুরে শুয়ে চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিল,ঘুম ভেঙে চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে এসব ভাবছিলো এমন সময় সত্যি করে ফ্ল্যাটের বেল টা বেজে উঠলো।শুভ চোখ তাকিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে ড্রইং রুমে ছুটে গিয়ে দেখে মা দরজা খুলে দিয়েছে…সুশী আর অভিক।অভিক কি যেন বলছিল সকালে?আর সুশীও তো পর্ণার ভাঙা ফোন টা নিয়ে গেছিল সকালে।এস.এস এগিয়ে এসে সোফায় বসলো অভিকদের সাথে।
“পর্ণার একটা হিস্ট্রি আছে,তুই জানিস?”বিকেলে অনেকদিন পর প্রজ্ঞা বাবার সাথে চা খাচ্ছে,যদিও উদ্দেশ্য পর্ণার কেসের আপডেট নেওয়া।ওর  মা কিটি পার্টিতে গেছে।বাড়ি থাকেই কম,আর থাকলেও ড্যাডের সঙ্গে বসে কোনোদিন চা খেয়েছে বলে প্রজ্ঞার মনেও পড়েনা।অন্যদের মতো ও ওর মা বাবা কে কোনোদিন একসাথে সময় কাটাতে দেখেনি,ঝগড়া করতেও বিশেষ দেখেছে বলে মনে পড়েনা,ওই কথা কাটাকাটিতেই শেষ হয়ে যেত ওদের মতপার্থক্য।সবচেয়ে আশ্চর্য্য দুজনে দু জগতের মানুষ।পর্ণার বাবার দিকের আত্মীয়দের ও বিশেষ দেখেনি,বাবাকেও ওদের কথা বিশেষ বলতে শোনেনি।সেখানে মা সারাক্ষণই নিজের আত্মীয়দের গুণকীর্তন করতে থাকে।ড্যাড উইকেন্ডে শুধু বাড়ি আসে, তাও প্রতি সপ্তাহে না।ড্যাডের কোয়ার্টার থেকে অফিস যতটা,বাড়ি থেকে ততোটাও।কিন্তু জ্ঞান হয়ে থেকেই প্রজ্ঞা এটাই দেখছে।আগে যখন খুব ছোট ছিলো, প্রজ্ঞা বায়না করতো বাবার কাছে গিয়ে থাকার।কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে বাবা সরে গিয়ে মা কাছের হয়ে উঠলো।মা কে অনুকরণ করতে করতে ও মায়ের ছায়া হয়ে উঠলো।এখন তো বাবাকে বোকা মনেহয়,কারণ সততা টাই একটা বিরাট শূন্য প্রজ্ঞার কাছে।যারা জীবনে কিছু করতে পারেনা তারাই সততার মুখোশ পরে ঘোরে।যাইহোক ওর মা নিজের বাবার দেওয়া বাড়িতে থেকে মেয়েকে নিজের ছাঁচে তৈরি করেছেন,যার কাছে ক্ষমতাই শেষ কথা।পর্ণার হিস্ট্রি মানে নিশ্চই ওই বোকা সৌরভটা, মালটার ঘটে বুদ্ধি বলে কিছু নেই।ও তো জানেনা প্রজ্ঞা ওকে কিভাবে ফাঁসিয়ে রেখেছে,যদি কোনো ভাবে পর্ণা মুক্তি পায় তাহলে ফাঁসবে শুধু সৌরভ।যেন কিছু জানেনা এমন ভাব করে প্রজ্ঞা ওর বাবাকে বললো,”হিস্ট্রি!!!””হ্যাঁ,ওর কলেজের কেস।ছেলেটা বড়লোক বাবার বখে যাওয়া ছেলে।পড়াশোনা, কাজ কিছুই প্রায় করেনা।দেখতে হ্যান্ডসম আর নিজের গানের ব্যান্ড আছে বলে মেয়েদের খেলায়।এমনকি তোদের ওই শুভঙ্কর স্যারকে ব্যক্তিগত রাগের কারণে জেলেও পাঠায়,কিন্তু পর্ণাই একদিনের মধ্যে সব প্রমান জোগাড় করে এস.এস কে শুধু বাঁচায় না,ওই কেস ক্যান্সেল করিয়ে ছাড়ে।আর পর্ণার সাথেও সৌরভ খারাপ কিছু করার চেষ্টা করেছিল কলেজ ট্যুরে গিয়ে।সেখানেও এস.এস বাঁচায়।এসব না না কারণে সৌরভ সন্দেহের তালিকায় আছে।এটা কনফিডেন্সিয়াল কিন্তু, তুই ওদেরও কিছু জিজ্ঞেস করিসনা।”ডি.এস.পি ব্যানার্জির কথায় প্রজ্ঞা বলে,”আরে চিল ড্যাড।তুমি কি এসব নতুন করে আমায় শেখাবে?!”আর মনে মনে বলে,’বোকা সৌরভ এর এটাই প্রাপ্য।ওর মতো একটা গবেট খালি হেঁড়ে গলায় চেঁচাতেই পারে।আর পর্ণা!!!ও কোনোদিন যদি ছাড়া পায়,আগের কথা কিছুই ওর মনে থাকবেনা।এমন ব্যবস্থাই প্রজ্ঞা করবে।ওকে সে ভাবেই ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে প্রজ্ঞার এক বন্ধুর পরামর্শে।পাঁচদিন টানা দিতে পারলেই ব্যাস,প্রাণে মরবে না কিন্তু সারাজীবন বেঁচে মরে থাকবে।দেখবে তখন এস.এস এর প্রেম কোথায় থাকে?!শুধু যদি ঐ বোকা সৌরভ টাকে দিয়ে একবার রেপ করিয়ে দেওয়া যেত..’প্রজ্ঞার নিজের বাবাকেও করুনা হয়,সততার যুপকাষ্ঠে জীবন বলি দিয়েও কিছুই পেলোনা।মা তো কোনোদিন ওনার স্ত্রী হিসেবে নিজেকে ভাবেনি,আর পর্ণাও এখন শুধু ব্যবহার করে ওঁকে।দাদুর পছন্দ বলে মা না বলতে পারেনি তাই বিয়ে করেছিল,শুধু প্রজ্ঞা ভেবে পায়না ও এলো কিকরে?’সত্যি ভালোবাসা’…হাহা।ওসব গল্পকথায় হয়।আর ওসব বোগাস গল্পে প্রজ্ঞা ব্যানার্জি বিশ্বাস করেনা।


দ্বাদশ পর্ব:-
“বলো অভিক,এই সন্ধ্যে বেলা অতদূর থেকে বাইকে এলে?” এস.এস কে অনেকটাই স্বাভাবিক মনেহয় অভিকের,হয়তো সময়ের মলম।বলে,”না স্যার আমরা দুজনেই কলেজ থেকে আসছি,ট্রেনেই এলাম।”

“তারপর বলো সকালে কি যেন বলছিলে লালবাজারে।তুমি কি কিছু খবর পেয়েছ?”শুভঙ্করের কথায় অভিক চুপ করে সুশীর দিকে তাকায়।সুশী বলে,”আচ্ছা শুভদা,প্রজ্ঞা কি সত্যি ভালো হয়ে গেছে,মানে ওর মনে সেই অহংকার,হিংসা কিছু আর নেই?আপনার কি মনে হয়?”সুশীর কথা শেষ করতে দেয়না শুভ,”নাহলে ওকি ওর বাবার কাছে আমাদের নিয়ে যেত?ও যদি কোনোভাবে পর্ণার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে থাকতো ও তো চাইতোনা কেস টার সমাধান।অভিক জানে,কোনো রেফারেন্স না থাকলে কোথাও কাজ জলদি হয়না।ওর দাদা লালবাজারে আছেন,আমাদের সাথে ডাইরি করার সময় ছিলেন,তাও আজ সকাল অবধি কোনো ইনভেস্টিগেশন শুরু হয়নি।সেখানে প্রজ্ঞার বাবার কথায় সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হলো।প্রজ্ঞা তো এসব জানে,তাহলে?”শুভঙ্করের কথার প্রত্যুত্তরে এবার অভিক বললো,”হতেও তো পারে নিজের ওপর থেকে সন্দেহ হটাতে এটা করেছে?”এবার শুভ বললো,”জানিনা পর্ণার সাথে কি হয়েছে,কিন্তু কেউ এর পিছনে আছে জানতে পারলে আমি হয়তো মনেও রাখবনা আমি একজন শিক্ষক।তখন শুধুই পর্ণার স্বামী হয়ে যাবো।তবে আমার মনে হয়না প্রজ্ঞার এতটা দুঃসাহস হবে।আর অপরাধ করলে তার মুখে ভয় থাকবেনা একটা!?”অভিক অবাক হয়,তাহলে স্যার এত মানসিক চাপের মধ্যেও প্রজ্ঞাকে খেয়াল রেখেছিলেন।সত্যি বলতে কি অভিকও একবারই ওর মুখের বদল দেখেছিল,এস.এস এর  কথার সময়।অভিক যেটা জানতে কলেজ গেছিল সেটা জানতে পেরেছে,কিন্তু তার দ্বারা কিছুই প্রমান হয়না।অভিক লাইব্রেরি গেছিল,ওখানে ওর একজন চেনা দাদা আছে।তার থেকে শুধু জানতে পেরেছে,প্রজ্ঞা ঘটনার দিন লাইব্রেরি গেছিল,কিন্তু…”সুশী আজ কলেজ গেছিলে কেন?আর সকালে যে প্রজ্ঞার ফোন নিয়ে গেলে,সেটা?”শুভঙ্করের কথায় অভিকের চিন্তা বাধা পায়।সুশী একটু কিন্তু কিন্তু করে বলে,”আপনার সময় পর্ণার কাছে শুনেছিলাম ওর মামাতো ভাই ফোনের দোকান,কিন্তু প্রচন্ড ভালো মেকানিকও।শখ থেকে শিখেছে।অনেক জটিল প্রবলেম ঠিক করে দেয়।তার কাকুর সাথে ওর কাছে গেছিলাম দুপুরে।….ফোনটা ভালো ড্যামেজ হয়েছে শুভদা।সুজন,পর্ণার ভাই ফোনটা একদিনের জন্য রাখলো।কাল দুপুরে ঠিক হোক না হোক দিয়ে দেবে।সরি শুভদা আপনার পারমিশন না নিয়েই….”।শুভঙ্কর খানিক্ষণ চুপ করে বলে ,”আসলে পর্ণার কোনো জিনিস হারাতে চাইনা,যদি ওকে না পাই,এগুলো তাই ওর স্মৃতিচিহ্ন।সেইজন্যে…”শুভ্রদেবী এতক্ষন রান্নাঘরে চা করছিলেন,সেই মুহূর্তে চা নিয়ে এসে শুভর মুখে কথাটা শুনে ধমকে ওঠেন,”শুভ…কেন খালি অলক্ষণে কথা বলছিস?কিছু হবেনা পর্ণার।আমার মন বলছে।…ভালো করেছিস সুশী,চেষ্টা তো করতেই হবে সবেতে।”মায়ের কথায় শুভ দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলে,”জীবন তো খালি নিয়েই গেছে মা।তাই হয়তো ভয় পাই হারাবার।অনেকদিন পর আমরা ভালো ছিলাম,কে জানে তোমার ঠাকুর কি লিখেছে তোমার বাকি জীবনটায়।”শুভ্রা দেবী শুধু বলেন,”একাকিত্বের যন্ত্রনা আমি খুব ভালো জানি,কিন্তু ঠাকুর না থাকলে তোর বাবা মারা যাওয়ার পরের দিন গুলো কাটিয়ে আজ তোকে মানুষ করতেও পারতামনা।সেই ঠাকুরই আমায় মনে জোর দিচ্ছে,আমাদের পর্ণার কিছু হয়নি।ওর বাবা মা,আমরা কোনোদিন কারোর খারাপ করিনি,দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে”।শুভ্রা দেবীর কথায় ঘরে উপস্থিত বাকিরা একটা জোর পায়।হয়তো এই জোরটাই সবাই মনে মনে খুঁজছে।অভিক শুভঙ্করকে বলে,”স্যার আমার দাদাকে ফোন করেছিলাম,আপডেটস কিছু দিতে পারলোনা।মিস্টার ব্যানার্জী তো সন্ধ্যের দিকে একবার ফোন করতে বলেছিলেন।একবার করবেন নাকি?”শুভঙ্করও ফোন টা করবে করবে ভাবছিলো,অভিকের কথায় ফোন বের করে নম্বর টেপেন।পুরো রিং হওয়ার পর ডি.এস.পি ফোন ধরেন।ওনার সাথে কথার মাঝে শুভর কপালে ভাঁজ পরে।মিনিট পাঁচেক কথা বলে ফোন রেখে শুভ বলে,”উনিভার্সিটি গেটের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে ওইদিন ৫টার সময় পর্ণা উনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে যেখান থেকে গাড়িতে উঠে,সেই দিকেই যায়।….প্রজ্ঞার বাবা এখন একটু ব্যস্ত আছেন,রাতে ফোন করে আরো কিছু জানাবেন বলেছেন”।অভিক লক্ষ্য করে স্যারের ভ্রুকুটি টা রয়েই যায়।
“উঃ… উঃ.. জ-ও-ও-ল…জ-ও-ও-ও-ল”,খুব আসতে আসতে জড়ানো গলার আওয়াজে রত্নার নজর যায় মেয়েটার দিকে।ও বসে বসে একটা বই পড়ছিল,এরা মোবাইল অ্যালাউ করেনি।বইটা রেখে উঠে এসে মেয়েটার মুখের কাছে কান নিয়ে শুনে একটা গ্লাস থেকে চামচে করে একটু জল নিয়ে মুখে দেয়।মেয়েটা কে মনে হচ্ছে ওরা আটকে রেখেছে;যদিও রত্না আদার ব্যাপারী, জাহাজের খবরে ওর আর কি দরকার!ও টাকা পাচ্ছে কাজ করছে,তবুও মেয়েটার মুখ দেখে মায়া হচ্ছে।।ও একটা নার্সিং হোমে আয়ার কাজ করতো,ওখানেই ইঞ্জেকশন দেওয়া,স্যালাইন লাগানো এসব শিখেছিল।পালস দেখতে,প্রেসার মাপতেও পারে।ও দেখলো পালস রেট খুবই কম,৫০ মতো।প্রেসার মাপার যন্তরটা নেই।কিন্তু সৌরভ স্যারকে ফোন করতে হবে,মেয়েটাকে ঠিক লাগছেনা।প্রায় চব্বিশ ঘন্টা হলো ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে,পেটে কোনো খাবার যায়নি।আহা বাচ্চা মেয়ে,কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে।হাতে নোয়া বাঁধানো আছে,সিঁথিতে সিঁদুরও আছে।কেন যে মানুষ এরকম করে?ওই সৌরভ স্যারের সাথে যে দিদিটা ছিল,মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল বড়লোক মা বাবার আদুরে মেয়ে,একটা মেয়ে হয়ে মেয়ের সর্বনাশ কিকরে করে?!না সন্ধ্যে হতে চলল, সৌরভ স্যারকে একটা ফোন করে নিতে হবে।”অভিক তুই যে নম্বরটা ট্যাপ করতে বলেছিলি ওতে কিছু সন্দেহ জনক পাওয়া যায়নি।নরমাল ফোন কল ই হয়েছে গত ১২ঘন্টায়।দেখ সত্যি কথা বলতে কি কেউ অপরাধ করলে এখন আর নিজের পার্সোনাল নম্বর ব্যবহার করেনা।আর এখনকার দিনে একটার বেশি ফোনই স্বাভাবিক”,অভিক লালবাজারে থাকা ওর দাদাকে প্রজ্ঞার নম্বর ট্যাপ করতে দিয়েছিল,কিন্তু লাভ কিছু হলোনা।এখন শেষ একটাই ভরসা।সেটা যদি হেল্প না করে,জানেনা পর্ণাকে ফিরে পাওয়া যাবে কিনা?প্রজ্ঞা সরাসরি জড়িত কিনা অভিক জানেনা,কিন্তু মেয়েটা অসম্ভব ধূর্ত।ওর বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রমাণও তেমন পাওয়া যায়নি,শুধু লাইব্রেরি যাওয়ার সময়টা ছাড়া।ও সেদিন লাইব্রেরি গিয়েছিল,কিন্তু ৩টে থেকে ৪টে।ওই একটা শুধু ভুল ও করেছে।দেখা যাক অভিকের শেষ অস্ত্রটা কাজে আসে কিনা।এই সময় অভিকের ফোনে ওই কাঙ্খিত নম্বর থেকেই ফোন আসে।”স্যার এই বেড়োলো,তবে নিজের গাড়িতে নয়।ক্যাব নিয়ে।আমি পিছনে যাচ্ছি।পরে ফোন করবো।”অভিক শুধু,”ওকে” বলে ফোন কেটে অপেক্ষা করতে থাকে।পর্ণার সাথে ওর আলাপ খুব বেশি হলে ৩মাস,কিন্তু ওর নিজের বোন না থাকার আক্ষেপটা পর্ণা অনেকটাই মিটিয়ে দিয়েছে।ও কিছুতেই এত সহজে পর্ণা কে হারিয়ে যেতে দেবেনা।দুটো ফোন করতে হবে এক্ষুনি,অভিক ফোন টা হাতে নেয়।
চলবে….

You may also like

Leave a Comment

error: Content is protected !!